
অপুদাস, কারীগন্জ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকালে তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষক শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে তার শরীরে আপত্তিকরভাবে হাত দিতেন। এছাড়া প্রতিদিন তাকে খাবার খাওয়ার জন্য ১০ টাকা করে দিতেন। এভাবে প্রায় দুই সপ্তাহ টাকা দেওয়ার পর সোমবার ওই শিক্ষক তার হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে দেন। এতে ভয় পেয়ে সে ওয়াশরুমে না গিয়ে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। শুধু তার সঙ্গেই নয়, আরও কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গেও ওই শিক্ষক একই ধরনের আচরণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় গ্রামবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাতে বাধা দেন। পরে তাকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে রাখা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম রোকনুজ্জামান ও কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন আর কোনো মেয়ের সঙ্গে না ঘটে। আমি ওই শিক্ষকের শাস্তি চাই।”
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply