
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আদালতের নির্দেশের পরও অভিযোগ তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তদন্ত কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি না পাওয়ার মধ্যেই বিরোধপূর্ণ দোকানঘরের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় জিডি নম্বর-২৩২, তারিখ ০৫/০৩/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে বাদীর অভিযোগ তদন্তের জন্য গত ২৯/০৩/২০২৬ তারিখে আদালত থেকে অনুমতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আদালতের স্মারক নম্বর ১৫৪৩(২), তারিখ ৩১/০৩/২০২৬ মূলে আদেশের কপি সদর থানা, চুয়াডাঙ্গা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পর ইতোমধ্যে আনুমানিক ছয়টি তারিখ পার হয়ে গেলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিষয়টি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
বাদী আরও জানান, প্রথমদিকে তদন্তের দায়িত্ব ছিল এসআই অমিতের ওপর। তার অভিযোগ, প্রায় চার মাস বিষয়টি কার্যত নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় থাকার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনুমানিক দুই মাস ধরে অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব এসআই শরিফুজ্জামানের কাছে রয়েছে। তবে তাকেও একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর অগ্রগতি দেখতে পাননি বলে অভিযোগ বাদীর।
এদিকে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যেই গত ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে নতুন করে দোকানঘর ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বাদীর অভিযোগ, ওই সময় বিবাদী মোঃ কামরুল ইসলাম কয়েকজন লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন মালামাল বের করে নিয়ে যান। ঘটনাটি আশপাশের কয়েকজন দোকানদার প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে পাশের দোকানের ম্যানেজার মোঃ বিটুল মিয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন বাদী।
বাদী মোছাঃ সুমী খাতুনের দাবি, ঘটনার পরপরই তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরিফুজ্জামানকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। তবে তার অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা সাড়া তিনি পাননি।
ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, একটি অভিযোগের তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি দেওয়ার পরও যদি মাসের পর মাস তা নিষ্পত্তিহীন থাকে এবং সেই সময়ের মধ্যেই বিরোধপূর্ণ দোকানঘর নিয়ে নতুন করে ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রতিকার ও নিরাপত্তা পাবেন কীভাবে?
বাদীর আরও প্রশ্ন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও অভিযোগের তদন্তে যদি দীর্ঘসূত্রিতা চলতেই থাকে, তাহলে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে পরবর্তীতে আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়-দায়িত্বই বা কে নেবে?
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে থানায় যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন।
তবে দোকানঘরের তালা ভাঙা, মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এ প্রতিবেদনের সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী মোঃ কামরুল ইসলামের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরিফুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রিতায় না রেখে আদালতের আদেশ ও জিডির প্রেক্ষিতে অভিযোগটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা, দোকানঘর ও মালামাল নিয়ে ওঠা অভিযোগের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাদীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রশ্ন এখন একটাই—আদালতের নির্দেশের পরও যদি একটি অভিযোগের তদন্ত মাসের পর মাস ঝুলে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় কোথায় যাবেন?
Leave a Reply