1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা: বেসিন যেন মেডিকেল বর্জ্যের ডাস্টবিন  - দৈনিক সময়বেলা
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আসামীসহ হেরোইন আটক নড়াইলে লাশের সাথে অনৈতিক কাজ, আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক আধুনিক সেবায় এগিয়ে আছে মেডিকো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা  শ্রীপুরে মসজিদে চুরি, ফ্যান-ব্যাটারি-মোটরের তারসহ বাথরুমের দরজা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা শিবগঞ্জে ৫৯ বিজিবির বিশেষ অভিযান চিহ্নিত মাদক কারবারী আটক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব পরিবারকে ঘর নির্মাণ সামগ্রী দিল উদারতা ফাউন্ডেশন রানীহাটি পাড়দিয়ার গুচ্ছগ্রামে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র রাতভর অভিযান: ১ জন আটক, বিপুল পরিমাণ এস্কুফ সিরাপ ও ইয়াবা জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রশিবির উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা: বেসিন যেন মেডিকেল বর্জ্যের ডাস্টবিন 

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

হাফিজুর রহমান (যশোর) প্রতিনিধি:

 

 

 

যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য রাখা হাত ধোয়ার বেসিন এখন পরিণত হয়েছে মেডিকেল বর্জ্য ফেলার ডাস্টবিনে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই তৈরি হয়েছে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

 

২৬ই,জুন(শুক্রবার)সরজমিনে গিয়ে  দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দার গ্রিলের পাশে থাকা একটি সাদা রঙের বেসিনটি বিভিন্ন প্রকার ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত চিকিৎসা সামগ্রীতে ঠাসা। সেখানে সরকারি ও বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের ওষুধের খালি কার্টন, ইনজেকশনের অ্যাম্পুল, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের প্লাস্টিক প্যাকেট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্জ্যের ভারে বেসিনের পানির কলটি ঢাকা পড়ে গেছে এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশে ডাস্টবিনের বক্স থাকলেও সেখানে বর্জ্য রাখা হয়নি।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, হাসপাতালের ভেতরে যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে প্রকাশ্য স্থানে এভাবে সংক্রামক মেডিকেল বর্জ্য ফেলে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এতে করে হাসপাতালে এসে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য অপসারণ না করে রোগীদের ব্যবহারের বেসিনে এভাবে ওষুধ ও সিরিঞ্জের বর্জ্য স্তূপ করে রাখা হাসপাতাল প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীর  মোছাঃ রহিমা বেগম (৪৫) নামের এক ভুক্তভোগী নারী রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গায়ে জ্বর নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসলাম।  কিন্তু বেসিনের কাছে গিয়ে দেখি রক্তমাখা সিরিঞ্জ আর ওষুধের খোসায় ভরে আছে। গন্ধও বেরোচ্ছে। হাসপাতাল যদি নোংরা থাকে, তাহলে আমরা সুস্থ হব কীভাবে? এগুলো দেখার কি কেউ নেই।

 

শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা এক অভিভাবকের  নিজের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে আউটডোরে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন,বাচ্চারা তো অবুঝ, ওরা যেকোনো জায়গায় হাত দিতে পারে। এভাবে প্রকাশ্য স্থানে বেসিনের ওপর বিষাক্ত সিরিঞ্জ আর ওষুধের বোতল ফেলে রাখা চরম বিপজ্জনক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ইনফেকশন ঘটতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

হাসপাতাল থেকে নিয়মিত ওষুধ নিতে আসা বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ (৬৭)বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু ভেতরের এই নোংরা পরিবেশ দেখে বুক কাঁপে। হাত ধোয়ার বেসিনটাকে ডাস্টবিন বানিয়ে রাখা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কী কাজ করে তা আল্লাহ-ই জানেন!

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন বেসিনের ভেতর মেডিকেল বর্জ্য স্তূপ করে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। নিয়মানুযায়ী সমস্ত ব্যবহিত সিরিঞ্জ, অ্যাম্পুল ও ওষুধের কার্টন নির্দিষ্ট সেফটি বক্স বা ডাস্টবিনে ফেলার নিয়ম রয়েছে। কোন ওয়ার্ড বা কোন শিফটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলার কারণে এমনটা ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেসিনটি পরিষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্বরত কর্মীদের সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের উদাসীনতা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT