
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা।
গত ১৪ জুন ২০২৬ (রবিবার) আনুমানিক সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন চুয়াডাঙ্গা ফকিরপাড়ার বাসিন্দা খালেক। এ সময় তাদের সঙ্গে একটি সবুজ রঙের ব্যাগ ছিল। ব্যাগটির ভিতরে রোগীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বাড়ির চাবি, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ রাখা ছিল।
রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকায় ব্যাগটি বেডের পাশে রেখে দেন। এ সুযোগে এক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে ব্যাগটি নাড়াচাড়া করতে থাকে এবং পরে সেটি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ব্যাগটি নিয়ে চলে যাচ্ছে। তবে তার মুখে মাস্ক পরা থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে।
শুধু এ ঘটনাই নয়, হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে দালালদের দৌরাত্ম্য, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ এবং সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীসেবার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নিরাপত্তার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত তদারকি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাই রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply