
হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
ছিনতাইয়ের ৬০ ঘন্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে ও পুলিশি তৎপরতায় ছিনতাই কৃত মিশু,চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৩ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃত চোর ছিনতাই চক্রের সদস্যরা হলো শ্যামনগর থানার গুমোনতলী গ্রামের আবুল কাশেম সরদারের পুত্র মূল হোতা শাহাজান কবির ওরফে শাহীন ( ৪১) সাতক্ষীরা সদর থানার কুখরালী গ্রামের আজগর গাজীর পুত্র জয়নাল আবেদীন(৪০) এবং একই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম গাজীপুর আব্দুর রহমান(৪৪)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলের নির্দেশে ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( কালিগঞ্জ সার্কেলের) রাজিব হাসানের তত্ত্বাবধানে এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে থানার উপ- পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন ও সুমন রেজা মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত পৌনে ১ টার সময় সাতক্ষীরার বাঙ্গালের মোড় নামক স্থানে ফারুকের দোকানের পাশ থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত ঘটনায় ভ্যানচালক শিশু সিয়ামের চাচা কুশুলিয়া গ্রামের আমির আলী গাজীর পুত্র আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে(১৮/৩/২৬) একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৫। আসামি গ্রেফতারের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (কালিগঞ্জ সার্কেলের) প্রেস ব্রিফিং এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায় বাবার অসুস্থতায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামের ১৫ বছরের শিশু সিয়াম হোসেন সংসারের হাল ধরতে মিশু চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। গত ১৫/৩/২৬ ইং তারিখে যাত্রি নিয়ে নাজিমগঞ্জ বাজারে আসলে সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে মুক্তা জুয়েলার্সের সামনে হতে ছিনতাই চক্রের মূল হোতা শাহাজান কবির ওরফে শাহীন মুখে মাক্স পরা অবস্থায় মোটর সাইকেলে দাঁড়িয়ে নলতায় দোকানে মাল নেওয়ার কথা বলে ২০০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে। নলতায় যাওয়ার পথে কালিগঞ্জ সোহরাওয়ার্দী পার্কের রাস্তা হতে তার অপর দুই সহযোগী জয়নাল এবং রহমানকে মিশুতে তুলে দিয়ে মূল হোতা শাহিন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়। মিশু চালক সিয়ামকে নিয়ে তারা পশ্চিম নলতা প্যারামেডিকেল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের পিছনে এম জে এফ প্রতিবন্ধী স্কুলের পাশে একটি দোকানে নিয়ে একটি বস্তা উঠায়। ওই সময় মূল হোতা শাহিন আরো ২ জনকে মোটরসাইকেলের পিছনে বসিয়ে সেখানে হাজির হয়। ওই সময় গলায় অস্ত্র ধরে মিশু চালক সিয়ামকে মোটরসাইকেলে তুলে চোখ বেঁধে চৌমুহনী খানজিয়া সড়কের পাশে একটি জঙ্গলে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। এই সুযোগে এদিক থেকে ছিনতাইকৃত মিশু নিয়ে জয়নাল এবং রহমান সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। খানজিয়া সড়কে মিশু চালক সিয়াম কান্নাকাটি করলে একজনের ভ্যানে উঠে পুনরায় নলতা হাসপাতালের সামনে দিয়ে ছিনতাইকৃত স্থানে যেয়ে দেখে সেখানে তার ভ্যান সহ কেউ নাই। ওই সময় তার কান্নাকাটিতে মিন্টু নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক/ইউটিউবার পূর্ব নলতা গ্রামের সাঈদ খান নামক এক ব্যক্তিকে খবর দিয়ে ডেকে আনে। পরে বিষয়টি শুনে বুঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সিসি ক্যামেরার ছবি সহ ছড়িয়ে দিয়ে মানবিক আবেদন করে অসহায় মিশু চালক সিয়ামের জন্য। বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলার মানবিক পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলের হৃদয়ে স্পর্শ করলে তার নির্দেশে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযানে নামে। কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব হাসানের তত্ত্বাবধানে থানার উপ- পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন এবং সুমন রেজার নেতৃত্বে মিশু চলক সিয়ামকে সাথে নিয়ে বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা বাঙ্গালের মোড় ফারুকের দোকানের পাশে ভাংড়ী দোকানে ২৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা মিশু সনাক্ত করা হয়। ওই সময় মূল হোতা শাহাজান কবির ওরফে শাহীনকে গ্রেফতার করে ভ্যান উদ্ধার পূর্বক তার স্বীকারোক্তিতে বাকি দু,জনকে অভিযান চালিয়ে আটক করে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের হলেও বাকি পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
Leave a Reply