

অপু দাস,
কালীগন্জ প্রতিনিধিঃ
নীতিমালা লঙ্ঘন করে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ এর প্রধান সহকারী মোঃ আসাদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪) নভেম্বর কলেজ বন্ধের দিন পেশাদার গাছ কাটা শ্রমিক দিয়ে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ (কেসি কলেজ)’র গাছ কাটা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ক্যাম্পাস এর পশ্চিম দিকে মোটা মোটা মেহেগুনি গাছ কাটা হচ্ছে।
গাছ কাটার কারণ জানার জন্য প্রধান সহকারী মোঃ আসাদুজ্জামান এর নিকট ফোন করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, প্রধান সহকারী পদে থেকে গাছ কাটার কারণ কেন জানেন না এমন প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, আমি শুনেছি কিছু গাছের ডাল কাটা হচ্ছে আর এই ডাল কাটার দায়িত্বে আছে ইতিহাস বিভাগের আতিক স্যার, এরপর আতিক স্যারের নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সরেজমিনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। অধ্যক্ষ মো: আবু বক্কর সিদ্দিকী কে ফোন করা হলে তিনি বলেন যে কলেজের মধ্যে বিরল প্রজাতির তালিপাম গাছ রক্ষার জন্য ডাল কাটা হচ্ছে, চারিদিক থেকে তালিপাম গাছ ঢেকে ফেলেছে কিছু গাছ সেই কারণে এই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ যে মেহেগুনি গাছ কাটা হচ্ছে তার সাথে তালিপাম গাছের কোন সম্পর্ক নেই। এই দুই গাছে দূরত্ব প্রায় ৩শ ফিট।
এই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত রেজুলেশন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, কোন রেজুলেশন করা হয়নি, একাডেমি কাউন্সিল এর সিদ্ধান্তে এই গাছ কাটা হচ্ছে।
এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান যে একাধিক মেহেগুনি গাছের উপরের মূল অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন তাদের উদ্দেশ্য গাছ কেটে ফেলা ছিলো কিনা যা তারা সাংবাদিকদের নিকট লুকাচ্ছে সেটা ভেরিফাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানান,একমাত্র কনস্ট্রাকশনের কাজ করার জন্য কর্তৃপক্ষ রেজুলেশন করে গাছ কাটতে পারে এ ছাড়া গাছ কাটা অবৈধ, কোনটি ডাল, আর কোনটি গাছ, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাকির হোসেন জানান, মেহেগুনি গাছের ক্ষেত্রে গাছের নিচ থেকে উঠে আসা মূল কান্ডটাই হলো মূল গাছ বাকি সব ডাল, কিন্তু গাছ গুলোর মূল কান্ডই কেটে ফেলা হয়েছে!
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের জমিদানকারী পরিবারের সদস্য ও সাংস্কৃতিক কর্মী ম্যাডোনা জোয়ার্দার অভিযোগ করে বলেন, কলেজের মূল প্রশাসনিক ভবন আমাদের দান করা অথচ এই ভবনের ছাদ সংস্কার করা হয়না, আমি নিজে একজন বৃক্ষপ্রেমী, কলেজের গা ঘেঁষে আমার বাড়ি, গাছ কাটার শব্দ শুনে আমি বের হয়ে আসি, কোন রকম নিয়মনীতি অনুসরণ না করে এই গাছ কাটা হয়েছে।
আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেবার অনুরোধ করছি।
Leave a Reply