
Road accountপ্রশাসনের নজরদারির অভাবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমান যেন দুর্নীতির বর পুত্র হয়ে উঠেছেন। প্রতিটি প্রকল্প থেকে ঘুষ ,কমিশন, পার্সেন্টেজ আদায় করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন এই কর্মকর্তা। মোটা অংকের ঘুষ নিতে ঠিকাদারের বাড়িতে গোপন বৈঠক, ফুর্তি সহ বিশেষ ভুঁরিভাজ করতে দেখা গেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুলোর তদারকি করেন মফিজুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে এই
তদারকির সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১৫% থেকে ২৫% ঘুষের টাকা হাতিয়ে নেন। টি আর, কাবিখা ,কাবিটা অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান সহ সকল প্রকল্প থেকেই ঘুষ নেন মফিজুর রহমান। জন প্রতিনিধিদের ভাষ্য পিআইও মফিজুর রহমান প্রতি প্রকল্প থেকে অফিস খরচ ও
নির্বাহী কর্মকর্তার নামে ঘুষের টাকা নেন। ফলে উন্নয়ন কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পরে অধিকাংশ চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পিআইও মফিজুর রহমান ঘুষ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দু, একটি সাংবাদিক সংগঠনকে উন্নয়নের নামে প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে নিজের অপকর্ম দুর্নীতি ঢাকতে তৎপর রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিআইও মফিজুর রহমান। তার নিকট উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তথ্য জানতে চাওয়ায় তেলে বেগুনি জ্বলে ওঠে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার কে জানাল তিনি সাথে সাথে পিআইও মফিজুর রহমানকে ফোন করলে বাইরে আছে বলে জানান। ঐ মুহূর্তে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পিআইও মফিজুর রহমান ঐ সময়েই নিচ তলায় তার অফিসে বসে খোশ গল্পে মেতে থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলে এড়িয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। অনুসন্ধানে জানা যায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতাধীন ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মহেশ্বরপুর গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দূর করার জন্য সম্ভখালি খালের উপর ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলার চেয়ারম্যান অসীম মৃধা পায়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চেয়ারম্যান অসীম মৃধার নিকট থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার সিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক প্রোপাইটার শেখ সাদিকুর রহমান কাজটি কিনে নেয়। এখান থেকে ২৫% চুক্তিতে পিআইও মফিজুর রহমান দেখ ভালো ও তদারকি করে আসছেন। প্রকল্প স্থানে একটি নাম ফলক বা সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও এখানে সেটা খুঁজে পাওয়া যায়নি এজন্য স্থানীয়রা জানতে পারেনি এখানে কত টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। যে কারণে অধিক লাভের আশায় কালভার্টটি নির্মাণের শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করে এলাকাবাসী। সেটা উপেক্ষা করে নিম্নমানের রড, অপেক্ষাকৃত কম বালু, সিমেন্ট দিয়ে দায়সারা ভাবে জনগণের প্রতিরোধের মুখে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যে ঠিকাদার সাদিকুর রহমান ও পি আই ও মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে পরস্পর যোগসাজশে কাজটি সম্পন্ন করে। কাজটি সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদার কে সাথে নিয়ে গত বুধবার (৭ জনুয়ারি) বেলা আনুমানিক ২টার দিকে প্রকল্প স্থান ঘুরে এসে উপজেলা পরিষদের সামনে ঐ ঠিকাদারের বাসায় ঢুকে কমিশন নিতে ভূরিভোজে হাজির হয়। যেটা ওৎ পেতে থাকা সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে ঠিকাদার শেখ সাদিকুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি কত টাকার প্রকল্প মনে নাই বলে সম্ভবত ২৮ লাখের কিছু বেশি হবে বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। তবে স্থানীয় আলমগীর, মহাব্বত, নজর গাজী সবাই একাধিক ব্যক্তি এই প্রতিনিধিকে জানান ১৫ থেকে ২০ লক্ষ্য টাকার ভিতরে এই কালভার্ট এর কাজ শেষ করেছে বাকি টাকার কোন কাজ হয়নি। তারা আরো জানান কাজের সময় ৫ টার জায়গায় ৮টি সিমেন্ট ,বালু এবং নিম্নমানের বালু দেওয়ার সময় বাধা দিলেও পিআইও, ঠিকাদার তাদের কথা শোনেনি বরং বেশি কথা বললে এখানে ব্রিজ হবে না বলে ইউনিয়নের ঝায়ামারি সেলিমের বাড়ি হতে পানির ফিল্টার পর্যন্ত ১২০০ মিটার কাজ সম্পন্ন করার কথা। সিডিউলের টেন্ডারে শ্যামনগর উপজেলার মেসার্স হাবিব এন্টারপ্রাইজ যার প্রোপাইটার শাহানা ইয়াসমিন কাজটি পায়। একইভাবে ওই ঠিকাদার নিকট থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে দায়সারা ভাবে মাটি এবং ৩ নং ইট দিয়ে এইচ বিবি হেয়ারিং বন্ড কাজ সম্পন্ন করা সহ রাস্তার সাইডের মাটি রক্ষার
আরো সংবাদ পড়ুন
Leave a Reply