1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঝিনাইদহের একুশটি প্রত্নতত্ত স্থাপনা; গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও হয়নি সংরক্ষণ - দৈনিক সময়বেলা
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীতে মাছধরা নৌকা ডুবে জেলে নিখোঁজ ৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাস, বেলায়েত শেখের শিক্ষাযাত্রা অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ কুলিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে ‘জুতার মালা’, ইউপি সদস্যের জিডি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রধান পীরগঞ্জে নজরুল বর্ষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উদ্ধোধন। হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ও ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক মো. আরফান আলী : ঠাকূরগাঁওয়ের হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবাসহ নগদ ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বমী-স্ত্রীকে আটক করেছে হরিপুর থানা পুলিশ । গত কাল রবিবার (৩১আগস্ট) দুপুর ১টা ১৫মিনিটে উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও মজার (জিগাঁও) নামক স্থানে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে অভিজান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন পার্সসবর্তী উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মোঃ নাজির হোসেন (৫৫) পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ এবং তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮),পিতা-সাঈদ আলী। পুলিশ সূত্রে জানা জায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিপুর উপজেলার জিগাঁও গ্রামে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ীসহ হেরোইন ও ইয়াবা আটক ৫৯ বিজিবি’র সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আসামীসহ হেরোইন আটক নড়াইলে লাশের সাথে অনৈতিক কাজ, আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক

অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঝিনাইদহের একুশটি প্রত্নতত্ত স্থাপনা; গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও হয়নি সংরক্ষণ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
বিশেষ প্রতিনিধি –
ঝিনাইদহের ইতিহাস মানেই শুধু অতীত নয়-এটি এই জনপদের আত্মপরিচয়। সময়ের স্রোতে আর কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ স্থাপনাগুলো আজ চরম অবহেলার শিকার। অযতœ, অপরিকল্পিত ব্যবহারে ক্ষয় আর যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গর্ব বহনকারী জেলার ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি হেরিটেজ স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনার গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের বইয়ের পাতায়।

নীলকুঠি থেকে রাজবাড়ি-সবখানেই অবহেলার ছাপ:
জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ। চুন-সুড়কি, ইট ও টালির তৈরি এই স্থাপনাটির ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি, দেয়ালে ধরেছে শ্যাওলা ও বড় বড় ফাটল। অযতেœ পড়ে থাকায় ভবনের ভেতরে এখন সাপ, ব্যাঙ, শেয়াল ও কুকুরের অবাধ বিচরণ।
এটি শুধু একটি স্থাপনার চিত্র নয়। জেলার মিয়ার দালান, শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, নলডাঙ্গা রাজবাড়ি মন্দির, বারো বাজারের ঐতিহাসিক মসজিদ, কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবীদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ  জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি হেরিটেজ স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৃত্যুপথযাত্রী।

তালিকায় ২১টি স্থাপনা, বাস্তবে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ:
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রতœসম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা হেরিটেজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ স্থাপনাই নেই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায়। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত।
শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সাইনবোর্ড কিংবা পর্যবেক্ষক না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি-এখনই জরুরি পদক্ষেপ:
তারা বলছেন, শুধু গেজেট প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত জরিপ, দ্রুত সংস্কার পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ তার মূল্যবান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হারাতে পারে। এসব হেরিটেজ স্থাপনা শুধু অতীতের নিদর্শন নয়-এগুলো স্থানীয় পরিচয়, ইতিহাস ও সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ অবহেলা আর তদারকির অভাবে সেগুলো আজ নিঃশব্দে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তালিকাভুক্ত ২১টি স্থাপনাই ভবিষ্যতে কেবল নথির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে-বাস্তবে থাকবে না কোনো চিহ্ন। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ঝিনাইদহের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শনগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে কালের গহ্বরে-থেকে যাবে শুধু স্মৃতি আর আফসোস।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশা:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা পলাশ হোসেন বলেন, কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ব্যবস্থা আমার চোখে পড়েনি। এমনকি অদ্যবধি সংস্কার করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এটি দর্শনীয় স্থান হওয়া সত্বেও রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে দিন দিন এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নলডাঙ্গা রাজবাড়ি মন্দির কয়েক বছর আগে কিছুটা সংস্কার করে। তার পর থেকে রক্ষাণাবেক্ষনে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা আমার চোখে পড়েনি। তবে এটি দর্শনীয় স্থান হওয়া সত্বেও রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মতিরার রহমান বলেন, বারো বাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো তদারকি না করাই সেগুলো দিনদিন ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। সময় থাকতে এসকল ঐতিহাসিক স্থাপনার দিকে দৃষ্টি না দিলে পর্যায়ক্রমে ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাবে এসকল ঐতিহাসিক স্থাপনা।

শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা আমোদ আলী বলেন, শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদে কোন উন্নয়ন মুলক কাজ করা হয়নি। তাই প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানায় মসজিদটি সংস্কার করে নামাজের জন্য আরও আধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হোক। তাহলেই ঐতিহাসিক মসজিদটির ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা জানতে পারবে।

শৈলকুপার ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব বলেন, ‘ইতিহাসের সাক্ষী এসব স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার, নিয়মিত তদারকি ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। শুধু গেজেটভুক্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। না হলে অযতেœ এগুলো একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

মহেশপুর উপজেলার রাসেল আহমেদ বলেন, ‘তালিকাভুক্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কার্যত থেমে যায়। কোনো কোনো স্থাপনা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকায় সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসন, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ভূমি অফিসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরুই হয়নি।’

প্রশাসনের বক্তব্য:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেআরা বলেন, সদর উপজেলার হরিশংকরপুরে অবস্থিত কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের জন্য ইতি মধ্যে জেলা পরিষদের কাছে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। আশা করি প্রকল্পটি পাস হলেই বাইন্ডারি প্রাচিরসহ বিল্ডিং মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। কযেকটি স্থান পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে সেগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমি শুনেছি কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের বসতবাড়ি আছে। সেটি সময় করে পরিদর্শন করবো। যদি সংস্কার করার প্রয়োজন হয় করবো।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে দাড়িয়ে আছে। এটি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘হেরিটেজ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সংস্কার ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ও ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক মো. আরফান আলী : ঠাকূরগাঁওয়ের হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবাসহ নগদ ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বমী-স্ত্রীকে আটক করেছে হরিপুর থানা পুলিশ । গত কাল রবিবার (৩১আগস্ট) দুপুর ১টা ১৫মিনিটে উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও মজার (জিগাঁও) নামক স্থানে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে অভিজান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন পার্সসবর্তী উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মোঃ নাজির হোসেন (৫৫) পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ এবং তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮),পিতা-সাঈদ আলী। পুলিশ সূত্রে জানা জায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিপুর উপজেলার জিগাঁও গ্রামে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে।

© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT