1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
কিশোরগঞ্জের সিটিল্যাব হাসপাতালে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে দফারফা - দৈনিক সময়বেলা
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে ‘জুতার মালা’, ইউপি সদস্যের জিডি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রধান পীরগঞ্জে নজরুল বর্ষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উদ্ধোধন। হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ও ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক মো. আরফান আলী : ঠাকূরগাঁওয়ের হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবাসহ নগদ ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বমী-স্ত্রীকে আটক করেছে হরিপুর থানা পুলিশ । গত কাল রবিবার (৩১আগস্ট) দুপুর ১টা ১৫মিনিটে উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও মজার (জিগাঁও) নামক স্থানে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে অভিজান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন পার্সসবর্তী উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মোঃ নাজির হোসেন (৫৫) পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ এবং তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮),পিতা-সাঈদ আলী। পুলিশ সূত্রে জানা জায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিপুর উপজেলার জিগাঁও গ্রামে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ীসহ হেরোইন ও ইয়াবা আটক ৫৯ বিজিবি’র সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আসামীসহ হেরোইন আটক নড়াইলে লাশের সাথে অনৈতিক কাজ, আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক আধুনিক সেবায় এগিয়ে আছে মেডিকো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা  শ্রীপুরে মসজিদে চুরি, ফ্যান-ব্যাটারি-মোটরের তারসহ বাথরুমের দরজা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা

কিশোরগঞ্জের সিটিল্যাব হাসপাতালে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে দফারফা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিটিল্যাব হেলথ কেয়ার হসপিটালে দীর্ঘ ৪ ঘন্টা চিকিৎসকের অপেক্ষায় প্রসূতিকে নানা অজুহাতে আটকে রেখে সিজারিয়ান অপারেশনের পর চিকিৎসার নামে অবহেলা ও গাফিলতিতে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। মারা যাওয়া নবজাতক জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মো. নাজমুল ও মোছা. তামান্না আক্তার দম্পতির সন্তান। গত ৬ই অক্টোবর বিকালে নবজাতক মৃত্যুর এ ঘটনার পর ওইদিন রাতেই কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রসূতি মোছা. তামান্না আক্তারের ভাই মো. হিমেল।

এদিকে ঘটনা এবং থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই মালিকপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওঠেপড়ে লাগে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) রাতে জেলা বিএনপি’র একজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে এ ব্যাপারে সালিশ দরবার বসে। সেখানে ক্ষমা প্রার্থনা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এবং কিছু টাকাভর্তি একটি খাম পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি দফারফা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিটিল্যাব হেলথ কেয়ার হসপিটালের ট্রেড লাইসেন্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত কার্যক্রমের অনুমোদনের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। লাইসেন্স নবায়ন না করেই প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও ‘ম্যানেজ’ হওয়ার প্রবণতার কারণে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।

সিটিল্যাবে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অভিযোগকারী মো. হিমেল ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার সিংদই গ্রামের জিল্লু মিয়ার ছেলে ও মারা যাওয়া নবজাতকের মামা। থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রসূতি হওয়ার কারণে মোছা. তামান্না আক্তার বিগত দুই মাস ধরে পিত্রালয়ে ছিলেন। তাকে নিয়মিত চেকআপ করানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত ৬ই অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তামান্না আক্তারের প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না পেয়ে তাকে দ্রুত জরুরী চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার প্রাইভেট হাসপাতাল সিটিল্যাব হেলথ কেয়ার হসপিটালে নেওয়া হয়। হাসপাতালটিতে প্রসূতি তামান্না আক্তারকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তখন চিকিৎসক না থাকলেও অন্য কোনো হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে রোগীকে দেখার অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। এক পর্যায়ে বেলা আড়াইটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন চিকিৎসক ডেকে আনার পর ওই চিকিৎসক প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করেন এবং বাচ্চা প্রসব করান।

বাচ্চা প্রসবের পর বাচ্চার অবস্থা ভালো না থাকার পরও হাসপাতালটিতে বাচ্চাটিকে ভালো চিকিৎসা না করিয়ে এবং পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এমনকি বাচ্চাটির কাছে পরিবারের লোকজনদের যেতে না দিয়ে তারা কালক্ষেপণ করে। আস্তে আস্তে নবজাতকটি নিস্তেজ হতে থাকে। হাসপাতালের লোকজন যখন নবজাতকটিকে বাঁচানো সম্ভব না বুঝতে পারে, তখন পরিবারের লোকজনদের জানায়- ‘আপনাদের বাচ্চার অবস্থা ভালো নয়। আপনাদের বাচ্চাকে বাঁচাইতে হইলে তাড়াতাড়ি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।” এই পরামর্শ দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেটে পড়ে। পরক্ষণেই পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেন, নবজাতকটি মারা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ কর্তব্যরত ডাক্তার-নার্সদের কর্তব্যের অবহেলা, গাফিলতি এবং ভুল চিকিৎসার জন্য নবজাতকটি মারা গেছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতালের লোকজন নানাভাবে চেষ্টা-তদ্বির করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) রাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে ক্লিনিকের অফিস কক্ষে দরবার-সালিশ হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জেলা বিএনপি’র একজন শীর্ষ নেতাসহ দুইজন রাজনৈতিক নেতা, একজন ব্যবসায়ী ও কয়েকজন সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে বিষয়টি দরবারের মাধ্যমে রফাদফা হয়। সেখানে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি খামে ভরে ৫০-৬০ হাজার টাকা মারা যাওয়া নবজাতকের পরিবারের লোকজনদের হাতে দিলেও তারা তা ফিরিয়ে দেন। তবে পর্দার অন্তরালে বিষয়টি দফারফা করতে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নবজাতকের বাবা মো. নাজমুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দরবারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে ক্ষমা চান। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন- তাদের স্টাফদের অবহেলা আছে। আমি তো আর আমার বাচ্চাকে ফেরৎ পাবো না। ক্ষমার উপরে তো কিছু নেই। হাসপাতালের গৌতম বাবু আমাদের একটা খাম দেয়। আমরা নিচে এসে তা আবার ফিরিয়ে দেই।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মা বলেন, লিখিত অভিযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের কাছে আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

ঘটনার বিষয়ে সিটিল্যাব হেলথ কেয়ার হসপিটালের ম্যানেজার শহীদ বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে বিষয়টি শেষ হয়েছে। তবে তিনি মৃত্যু নিয়ে দফারফা হয় কি-না এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ও ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক মো. আরফান আলী : ঠাকূরগাঁওয়ের হরিপুরে ১৪৫ পিচ ইয়াবাসহ নগদ ১০ লক্ষ টাকাসহ স্বমী-স্ত্রীকে আটক করেছে হরিপুর থানা পুলিশ । গত কাল রবিবার (৩১আগস্ট) দুপুর ১টা ১৫মিনিটে উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও মজার (জিগাঁও) নামক স্থানে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে অভিজান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন পার্সসবর্তী উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মোঃ নাজির হোসেন (৫৫) পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ এবং তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮),পিতা-সাঈদ আলী। পুলিশ সূত্রে জানা জায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিপুর উপজেলার জিগাঁও গ্রামে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৪৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে।

© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT