
মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
বিশেষ প্রতিনিধি –
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় সোনা চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে মতিয়ার রহমান মতি (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আবারো গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও একই বিরোধে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে হামলা চালানো হয়েছিল। আহত মতিয়ার রহমান মতি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার আজিজুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ জানুয়ারি সোমবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে সে মহেশপুর শহর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ফেরার পথে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাষানপোতা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পেছন দিক থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিটি তার পিঠে লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে তার অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেছে। চিকিৎসার সময় সেখানে আহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান আলী জানান, সোনা চোরাচালানের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরেই তাকে গুলি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগেও একবার মতিয়ার রহমানের উপর হত্যাচেষ্টায় গুলি চালানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বাঘাডাঙ্গা গ্রামে মন্টু ও তার ভাতিজা শামীমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গেও এই বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবাইদুল ইসলাম বলেন, সোনা চোরাচালানের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই আবারো মতিয়ার রহমান মতির উপর গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারির আলোচিত ডাবল হত্যা মামলার প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম আকালের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই মতিয়ারের হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সেই পুরনো দ্বন্দ্ব থেকেই এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মতিয়ার রহমান মতিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তার অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
Leave a Reply