1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
কম্বোডিয়ায় ভাগ্য পাল্টাতে গিয়ে লাশ হলেন সোহাগ, লাশের অপেক্ষায় পরিবার - দৈনিক সময়বেলা
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে এস্কাফ, গাঁজা ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ঠাকূরগাঁওয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রম শুরু। কেশবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সাংবাদিকদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময়, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে কিশোরগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও গঠনমূলক কাজে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আনসার ভিডিপিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীতে মাছধরা নৌকা ডুবে জেলে নিখোঁজ ৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাস, বেলায়েত শেখের শিক্ষাযাত্রা অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ কুলিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে ‘জুতার মালা’, ইউপি সদস্যের জিডি

কম্বোডিয়ায় ভাগ্য পাল্টাতে গিয়ে লাশ হলেন সোহাগ, লাশের অপেক্ষায় পরিবার

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
বিশেষ প্রতিনিধি –
কম্বোডিয়ায় গিয়ে দালালের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ঝিনাইদহের সোহাগ মোল্লা নামে এক যুবক। মৃত্যুর প্রায় একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মরদেহ ফেরত আসেনি বাড়িতে। ফোন বন্ধ দালালের, পলাতক রয়েছে পরিবারের সদস্যরাও। এখন কিভাবে সন্তানের মরদেহ ফেরত আনবেন তার কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না পরিবার। দ্রুত লাশ ফেরত ও দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।

মায়ের এ কান্না আদরের সন্তানকে চিরদিনের মতো হারানোর। সন্তানের ছবিই যেন এই মায়ের একমাত্র অবলম্বন। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস কম্বোডিয়ায়। ভাল কাজ আর মোটা অঙ্কের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল দালালের। কিন্তু তা ভাগ্যে জোটেনি সোহাগের। দিনের পর দিন মানবপাচারকারীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ায় জীবন প্রদীপ নিভে গেছে তার। সেইসাথে খালি হয়েছে এই মায়ের বুক। সন্তানকে শেষবারের মত ছুয়ে দেখার ভাগ্যও হয়নি এই মায়ের। মৃত্যুর প্রায় একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মরদেহ ফেরত আসেনি বাড়িতে। দালালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। কোথায় কিভাবো, কোন অবস্থায় পড়ে আছে আদরের সন্তান সোহাগের মরদেহ তাও জানেননা তারা।

মানবপাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো সোহাগ মোল্লা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বাহির রয়েড়া গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে দালাল ক্ষুদ্র রয়েড়া গ্রামের জামিরুল শেখের ছেলে রয়েল শেখ।

সোহাগের পরিবার জানায়, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত রয়েল নিজেকে বৈধ কর্মসংস্থানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার দরিদ্র যুবকদের বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। সেই ফাঁদে পড়ে সোহাগ। দেড় লাখ টাকা মাসিক বেতনের আশ্বাস দিয়ে ৬ মাস  আগে সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এনজিও, সুদ ও আতœীয়দের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে টাকা দেওয়া হয় দালাল রয়েলকে। তবে কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই সোহাগকে জিম্মি করে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকা-ে বাধ্য করে রয়েল। দুইমাস দেওয়া হয় সামান্য বেতন। প্রতিবাদ করলে শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। বন্ধ করে দেওয়া হয় খাবার, চিকিৎসা। একটানা ১০ থেকে ১৫ দিন খাবার না দিয়ে শুধু পানি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার হয় তাকে। নির্যাতনের মাত্রা সহ্যসীমা ছাড়ালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহাগ। যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গত ১লা জানুয়ারি কম্বোডিয়ায় জীবন প্রদীপ নিভে যায় সোহাগের। এরপর থেকেই দালাল রয়েল ফোন বন্ধ করে ফেলে। গা ঢাকা দেয় তার পরিবারের লোকজনও। এখন কিভাবে সন্তানের মরদেহ ফেরত আনবেন তার কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না এই পরিবার।
কম্বোডিয়ায় নিহত সোহাগের মা সোহাগী খাতুন জানান, কিভাবে আমার সন্তানের মরদেহ ফেরত আনবো তার কোন কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সন্তানের সুখের আশায় এনজিও, সুদ ও আতœীয়দের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে টাকা দেওয়া হয় দালাল রয়েলকে। তার পরও দালাল রয়েল আমার কলিজার সন্তানকে মেড়ে ফেললো। আমি আইনের মাধ্যমে দালালের মৃতুদন্ড চায়।

নিহত সোহাগের চাচাতো ভাই ও কম্বোডিয়া ফেরত ইব্রাহিম মোল্লা জানান, দালাল রয়েলের খপ্পরে পড়ে সোহাগের সাথে একই ফ্লাইটে কম্বোডিয়া গিয়েছিলাম আমি। সেখানে আমাকেও জিম্মি করে করা হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি আমাকে সমকামিতায়ও বাধ্য করা হয়। রাজি না হওয়ায় মারধর, ইনজেকশন পুশ সহ অমানবিক নির্যাতন করা হয়। নানা কৌশলে সেখান থেকে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিওে আসি। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছি আমি।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, আমরা দালাল রয়েলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তবে তাকে আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের মানবপাচারে জড়াতে সাহস না পায়।

এদিকে অভিযুক্ত দালাল রয়েলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত দালাল রয়েলের দাদি জাহানারা বেগম জানান, ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে রয়েলের বাবা ও মা। প্রাণের ভয়ে তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে দাবি এই নারীর।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, এঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রাহন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT