
সাংবাদিক এস এম রেদ্বোয়ান, বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
“তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম…”
বাংলা সংগীতাঙ্গনের আকাশ থেকে যেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে গেল। কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই।
১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ডায়ালাইসিসের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
🎼 শিল্পীর জীবনগাথা
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরে জন্ম নেয়া ফরিদা পারভীন সুরের ভুবনে ৫৫ বছরের দীর্ঘ যাত্রা করেছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। বাবার সংগীতপ্রেম, দাদির গানের ধারা আর পারিবারিক উৎসাহ তাঁকে নিয়ে আসে গানের জগতে। শৈশবে মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে সংগীতে হাতেখড়ি নেন তিনি।
প্রথমে নজরুলসংগীত ও আধুনিক গানে আত্মপ্রকাশ করলেও তাঁর প্রকৃত পরিচিতি আসে লালনসংগীতের অগ্রণী কণ্ঠস্বর হিসেবে। লালন সাঁইয়ের বাণী ও সুরকে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও পৌঁছে দেন তিনি। জাপান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশে লালনের গান গেয়ে পরিচিত করেছেন বাউল দর্শনকে।
🏆 পুরস্কার ও সম্মাননা
লালনসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত “নিন্দার কাঁটা” গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
২০০৮ সালে পান জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার।
🎶 অমর সৃষ্টি
“এই পদ্মা এই মেঘনা”
“তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম”
“তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম”
— এমন অসংখ্য গান তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে।
🌸 শেষ বিদায়
ফরিদা পারভীন ছিলেন শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন বাংলা সংগীতের এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর গানে ছিল আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া, মানবতার আহ্বান, এবং সমাজ পরিবর্তনের বাণী।
জাতি আজ এক মহীরূহকে হারালো। আমরা গভীর শোকাহত।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর বিদেহী আত্মাকে শান্তি দিন।
Leave a Reply