
আশরাফুল আলম সরকার
বিশেষ প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬১ হাজার ৯০৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তার এ জয়কে স্থানীয়রা দেখছেন দীর্ঘ ৪৭ বছরের রাজনৈতিক প্রত্যাশার অবসান হিসেবে।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম শ্রীপুরের মাটি থেকে উঠে আসা কোনো প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ শুধু একটি আসনের জয় নয়—এটি আত্মপরিচয়ের পুনরুদ্ধার।”
ফল ঘোষণার দিন সন্ধ্যা গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছিল মানুষের ভিড়। চায়ের দোকান থেকে বসতঘর—সবখানে ছিল একটি প্রশ্ন, “এবার কি আমাদেরই একজন সংসদে যাচ্ছেন?”
ফল প্রকাশের পর আনন্দধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো শ্রীপুর। বিজয় মিছিল, করতালি ও স্লোগানে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলে
দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শুরুতে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের সুর স্পষ্ট হয়। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সংগঠনিক সংহতিকে বিজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করেন ডা. বাচ্চু।
ডা. বাচ্চুর রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৮১ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল থেকে। পরবর্তীতে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক দুঃসময়ে মামলা ও কারাবাসের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার জীবনে।
চিকিৎসক হিসেবে মানবিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এবারের নির্বাচনে তার জনসমর্থনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৮০টি কেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ২৩ হাজার ২২২ ভোটের মধ্যে এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৫৮ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা এহসানুল হক পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৩৫৪ ভোট।
ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৬১ হাজার ৯০৪।
বিজয়-পরবর্তী বক্তব্যে ডা. বাচ্চু বলেন,
এই জয় কোনো ব্যক্তি বা পদ-পদবীর নয়—এটি মানুষের বিশ্বাসের জয়। আমি কৃতজ্ঞ। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল শ্রীপুর-কেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্ব সংকট কাটিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের উত্থান ঘটল বলে মনে করছেন তারা।
এখন দৃষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের দিকে। কারণ বিজয় ইতিহাস রচনা করে, আর সেই ইতিহাসকে স্থায়ী করে কাজের ফলাফল।
Leave a Reply