
সাংবাদিক আহাদ আলী, উপজেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা পাগলা থানা নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী টানপাড়া গ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন মীর মোঃ কামাল পাশা (৭০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বড় ভাই মোঃ জালালউদ্দিন মীর (৮২) এর বৈধ ক্রয়কৃত সম্পত্তির ৩০ শতাংশ জমি জবরদখল করে নিজের নামে বিআরএস মূলে জাল দলিল করেছেন। একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
ভুক্তভোগী মোঃ জালালউদ্দিন জানান, “ছোট ভাই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটান। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম নেই। প্রতিকার চাইলে উল্টো হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
মুক্তিযোদ্ধা আক্তার মীরঅভিযোগ করেন, কামাল পাশা কাগজপত্র জাল করে সুবিধা নিচ্ছেন। “এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অসম্মানিত হচ্ছেন। কেউ মুখ খোলার সাহস পান না,”একজন স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন।
ভুক্তভোগী জালালউদ্দিন বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সেনাবাহিনী ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী বলেন, “আমি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছি। এখন ছোট ভাইয়ের অত্যাচারে ঘরছাড়া হতে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার চাই,” কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান মোঃ জালালউদ্দিন।
একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন, ডিজিআই নং (১১১৮২৬) ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয় সংগঠনগুলো বলছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে জাতীয় ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরব প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অবিলম্বে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার মান মর্যাদা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
মুক্তিযুদ্ধের গৌরব জাতীয় সম্পদ। কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জালিয়াতি করে থাকে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন সচেতন মহল।
Leave a Reply