1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
অর্ধশত বিঘা নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার পরিবার, প্রশাসন নীরব দর্শক - দৈনিক সময়বেলা
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে এস্কাফ, গাঁজা ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ঠাকূরগাঁওয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রম শুরু। কেশবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সাংবাদিকদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময়, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে কিশোরগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও গঠনমূলক কাজে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আনসার ভিডিপিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীতে মাছধরা নৌকা ডুবে জেলে নিখোঁজ ৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাস, বেলায়েত শেখের শিক্ষাযাত্রা অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ কুলিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে ‘জুতার মালা’, ইউপি সদস্যের জিডি

অর্ধশত বিঘা নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার পরিবার, প্রশাসন নীরব দর্শক

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ভৈরব নদী এখন আর শুধুই একটি জলপ্রবাহ নয়, এটি রীতিমতো একটি দখলদার চক্রের কবলে পড়া সম্পদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শমসের এবং তার দুই ভাই শফিকুল শমসের ও তরিকুল শমসের দীর্ঘদিন ধরে অর্ধশত বিঘারও বেশি নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দখলদারিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকদের নদীতে নামতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হচ্ছে। নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে পাকা প্রাচীর, যাতে সাধারণ মানুষ নদীমুখীই হতে না পারে। এলাকার মানুষের ভাষায়, এটা কোনো সাধারণ জমি দখল নয়, বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের প্রকাশ্য তা-ব।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঘোপপাড়া ও সাদিকপুর গ্রামের নদীর দুই পাড়জুড়ে শস্যখেত। কিন্তু তা কোনো কৃষকের নয়, বরং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কবজায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের ছায়ায় রাশেদ শমসের ও তার ভাইয়েরা বছরের পর বছর ধরে এই জমিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি, মামলা, হয়রানি।

স্থানীয় কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “নদীর দুই পাড় পুরো দখলে। আমরা নদীতে নামতেই পারি না। ব্রিজের পাশে দেয়াল তুলে দিয়েছে, যেন কৃষকরা একফোঁটা পানিও না পায়। এটা কি স্বাধীন দেশে সম্ভব?”

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা, জাহাঙ্গীর আলম সর্দার বলেন, “তারা শেখ মুজিবের মুর‌্যাল বানিয়ে, কলেজের নাম ব্যবহার করে নদী ও সরকারি জমি দখল করে নিচ্ছে। কলেজ সরকারি করার পেছনেও ছিল রাজনৈতিক প্রভাব। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এখন আবার নতুন করে দখল শুরু করেছে শফিকুল শমসের।” এমনকি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জমিও রেহাই পাচ্ছে না এই চক্রের হাত থেকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার কেনা জমির নিচে নদীর জায়গা ছিল। সেটি দখল করে তাতে ছাতা স্থাপন করেছে শফিকুল। এখন সে আমার জমিতেও প্রাচীর তুলছে। আমি আদালতে গিয়েছি, ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, তবু কাজ থামেনি। এটাই কি আইনের শাসন?”

অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ শমসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও শফিকুল শমসের ছাতা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, “এটা স্থায়ী কিছু না। চাইলে ভেঙে দেবো।” নজরুল ইসলামের জমি দখলের অভিযোগ তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কুমার দাস বলেন, দীর জায়গা দখল করে চাষাবাদ করার কোন সুযোগ নেই। আমরা দ্রুতই লোক পাঠিয়ে তালিকা করব। যদি দখল হয় তা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT