1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
সড়কের বাক-সরলীকরনে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা, রেহাই পাচ্ছে না কবরস্থানও - দৈনিক সময়বেলা
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কবিতা ও সাংবাদিকতায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা মোঃ আবু সাইদ শওকত আলীর শতাধিক কবিতা প্রকাশিত। জাতীয় কবি ও সাহিত্য সংসদের নতুন কমিটিতে সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নড়াইলে এস্কাফ, গাঁজা ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ঠাকূরগাঁওয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রম শুরু। কেশবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সাংবাদিকদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময়, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে কিশোরগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও গঠনমূলক কাজে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আনসার ভিডিপিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীতে মাছধরা নৌকা ডুবে জেলে নিখোঁজ ৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাস, বেলায়েত শেখের শিক্ষাযাত্রা অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ কুলিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সড়কের বাক-সরলীকরনে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা, রেহাই পাচ্ছে না কবরস্থানও

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
স্বামী ছেড়ে গেছে বিশ বছর আগে। তিন মেয়ে নিয়ে কোনোরকমে টিকে আছেন নাসিমা খাতুন। শেখপাড়া বাজারের পাশের শীতালীডাঙ্গা মৌজায় এক কোণে স্বামীর ফেলে যাওয়া সামান্য ভিটায় খুপড়ি ঘরে আশ্রয় তার। দিন চলে ছাত্রাবাসে রান্না করে। কিন্তু সেই আশ্রয়টুকুও হারানোর পথে। সড়ক সরলীকরনে নামে সরকার সেই জমি অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসিমা বলেন, এই ভিটাটা ছাড়া আমার কিছু নাই। রাস্তা হলে থাকব কোথায়? মেয়েগুলারে নিয়ে কার দরজায় দাঁড়াবো? সরকার যদি উন্নয়নই করে, আমাদের বাঁচার জায়গাটুকু রাখবে না কেন?” এই জমিতে আমার ৭ ননদ, ৩ দেবর-ভাসুর আর শাশুড়ির ভাগ রয়েছে। যে টাকা পাবো সবই তো ভাগ হয়ে যাব। তখন আমি কোথায় গিয়ে থাকব?

তার পাশেই থাকেন ফাতেমা খাতুন। স্বামী ইজিবাইক চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালান। ঘরে পাঁচজন সদস্য। জমি বলতে ছোট্ট বাড়িটুকুই। সেইটিও চলে যাচ্ছে প্রকল্পের অধিগ্রহণ তালিকায়।

“এই বাড়িটা ছাড়া আর কোথাও জায়গা নাই। জমির দাম বলে যে টাকা দিচ্ছে, তা ন্যায্য না। ওই টাকায় নতুন জায়গা কেনা তো দূরের কথা, ভাড়া ঘর করাও সম্ভব না,” এ কথা বলতে বলতে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠেন ফাতেমা খাতুন।

এমন করুণ গল্প শুধু নাসিমা আর ফাতেমার নয়। পুরো শেখপাড়া বাজারেই চলছে বেদনার মিছিল। শেখপাড়া-লাঙ্গলবাধ সড়কের বাক সরলীকরণ প্রকল্পে শেখপাড়া বাজার এলাকায় প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মিটার রাস্তা তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে। এতে উচ্ছেদ হতে যাচ্ছে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পরিবার। ভেঙে ফেলা হবে অর্ধ শতাধিক দোকানপাট, পাকা দালান, এমনকি কবরস্থান পর্যন্ত।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, উন্নয়নের নামে মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হবে। অথচ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ন্যায্য ক্ষতিপূরণের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে অবাস্তব পরিমাণ অর্থ। ফলে প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজন বা দালালদের ভাগে চলে গেলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

ক্ষতিগ্রস্ত শহীদুল ইসলাম বলেন, বাজারের সাথেই আমার পারিবারিক কবরস্থান। এখানে শুয়ে আছে আমার মা-বাবাসহ আত্মীয়রা। সেই কবরস্থানও উচ্ছেদ করা হবে। আমাদের ঘরবাড়ি, দোকান, কবরস্থানÑসব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে আমরা বাঁচব কীভাবে?”

গোলাম কাদের নামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা বলেছিলাম ডিএম কলেজের সামনে থেকে রাস্তা তৈরী করতে। তাহলে আমাদের এত ক্ষতি হবে না। কিন্তু ডিসি অফিস আর সড়ক বিভাগের লোকজন আমাদের কথা কানেই তুলছেন না। জোর করেই আমাদের জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের ঘর-বাড়ি না ভেঙ্গে বিকল্প কোন ব্যবস্থা করুক।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, বাক সরলীকরণের জন্য অনেক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া চলমান আছে। কারো যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে সেটা ডিসি অফিসে কমপ্লেন করবে। আমাদের কাজ জমি বুঝে নিয়ে কাজ করা।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহণ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার আহমেদ সাদাত এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT