1. admin@dainiksomoybela.com : Admin :
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ বছরে ৪ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ - দৈনিক সময়বেলা
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে এস্কাফ, গাঁজা ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ঠাকূরগাঁওয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রম শুরু। কেশবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সাংবাদিকদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময়, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে কিশোরগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও গঠনমূলক কাজে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আনসার ভিডিপিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীতে মাছধরা নৌকা ডুবে জেলে নিখোঁজ ৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাস, বেলায়েত শেখের শিক্ষাযাত্রা অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ কুলিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে ‘জুতার মালা’, ইউপি সদস্যের জিডি

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ বছরে ৪ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

 

  • এস এম রেদ্বোয়ান | বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অর্থ বরাদ্দ যেন দুর্নীতিবাজদের লুটপাটের খনি। গত পাঁচ বছরে এখানে অপারেশন বাবদ কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে অপারেশন থিয়েটার পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্টোরে নেই সরকারি ওষুধ, অথচ হিসাবপত্রে প্রতি বছর কোটি টাকার ওষুধ কেনার প্রমাণ মিলছে। এমনকি আয়া-পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামান্য বেতনের টাকাতেও ভাগ বসাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

অপারেশন হয়নি, খরচ গেছে কোটি টাকায়

হাসপাতালের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে হাতেগোনা কিছু অপারেশন হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো রিপোর্টে দেখানো হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি অপারেশন। শুধু তাই নয়, ওটি যন্ত্রপাতি মেরামতের খাতেও প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা বিল দেখানো হয়েছে। অথচ অপারেশন থিয়েটার এখন ধুলায় ঢেকে, অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

ওষুধে দুর্নীতির মহোৎসব

সরকারি বরাদ্দে প্রতি বছর কোটি টাকার ওষুধ কেনা হলেও রোগীরা পাচ্ছেন মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট বা একেবারেই পাচ্ছেন না। কাগজে-কলমে কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—হাসপাতালে জরুরি ওষুধের চরম সংকট বিরাজ করছে। এক ফার্মাসিস্ট অভিযোগ করেছেন, উপর মহলের নির্দেশেই তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণে বাধ্য করা হয়েছে।

কর্মচারীদের বেতনও নিরাপদ নয়

অভিযোগ উঠেছে, আয়াদের দৈনিক মজুরি ৪৫০ টাকা আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ৫০০ টাকা হলেও তাদের হাতে মাস শেষে ধরিয়ে দেওয়া হয় মাত্র ২ থেকে ৬ হাজার টাকা। বাকিটা যায় কর্মকর্তাদের পকেটে।

অভিযোগের তীর ডা. হেলেনার দিকে

এই লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপার নাম। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রত্যক্ষ তদারকিতেই অপারেশনের ভুয়া হিসাব, ওষুধ লোপাট, বেতনে অনিয়ম সবই সংঘটিত হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন—“সব তথ্য আমার জানা নেই।”

প্রশাসনের অবস্থান

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেছেন—
“অপারেশনের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবে যে অপারেশন হয়নি তার মধ্যে বিশাল গ্যাপ রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, “ওটি রেজিস্টারেই আসল তথ্য থাকে। ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে স্কোর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এ নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

জনমনে ক্ষোভ

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই দুর্নীতির কেলেঙ্কারি স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
“যেখানে সরকারি বরাদ্দের ওষুধ, অর্থ আর বেতনই নিরাপদ নয়, সেখানে চিকিৎসা সেবা কতটা নিরাপদ?”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © 2026
Powered by: Nfly IT