
হাফিজুর রহমান (যশোর) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কেশবপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ আব্দুস সামাদ বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির,দপ্তর সম্পাদক ফারুখ খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুল আলম বুলবুল, ৬ নম্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রদল-যুবদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কেশবপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকা তুলে ধরেন।
ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান আবুল হোসেন আজাদের
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল হোসেন আজাদ বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের স্মারক। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ বা মতপার্থক্য যেন সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণ না হয়। কোথাও কোনো সমস্যা বা অসুবিধা তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।
আবুল হোসেন আজাদ আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে এককাট্টা হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি না করে সাংগঠনিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার পাশাপাশি তাঁদের রাজনৈতিক জীবন ও দেশের জন্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কেশবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপি, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
Leave a Reply