এস এম এ এইচ রিয়াদ,
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে প্রকাশ্যে অর্থ আদায় ও সাংবাদিককে অপমান করার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও’র অফিসে ভাউচার ছাড়াই ২০ হাজার টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই সাংবাদিককে জনসম্মুখে তাচ্ছিল্য ও উপহাস করে হাসাহাসি করেন স্থানীয় মেম্বারসহ কর্মকর্তারা।
অর্থ আদায়ের নাটক
মহেশপুর উপজেলার রাখালভুগা গ্রামের দিনমজুর উজ্জলের কিশোরী মেয়ে লামিয়ার (১৬) বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় মেম্বার মন্টুর অভিযোগে পরিবারটিকে ইউএনও অফিসে ডেকে আনা হয়। সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে পরিবারকে জানানো হয়—
“এখনই ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, না হলে প্রত্যেকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড হবে।”
অসহায় পরিবার গ্রামবাসীর কাছ থেকে ধার করে মোট ২০,৩০০ টাকা জোগাড় করে আনে। অভিযোগ, ইউএনও খাদিজা আক্তারের উপস্থিতিতেই মেম্বার মন্টু উজ্জলের হাত থেকে জোরপূর্বক টাকা নিয়ে নেন।
ভাউচার রহস্য
ঘটনার পর সাংবাদিকরা ইউএনও খাদিজা আক্তারকে ফোন করলে তিনি দাবি করেন—
“সরকারি ভাউচারের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু বাস্তবে ওই পরিবার বা কারও হাতে কোনো ভাউচার দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন— যদি সরকারি নিয়মে টাকা নেওয়া হয়, তবে প্রমাণপত্র কোথায়?
সাংবাদিককে অপমান
খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এস এম এ এইচ রিয়াদ, ইউএনও’র সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি স্পষ্ট করতে চান। কিন্তু ফোনালাপ শেষে ইউএনও অফিসের কর্মচারী, মেম্বার মন্টু ও কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে হাসাহাসি করে সাংবাদিককে তাচ্ছিল্য করেন।
এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তারা বলছেন—
👉 “প্রশাসন যদি সাংবাদিককে প্রকাশ্যে অপমান করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কি ন্যায়বিচার পাবে?”
এলাকাবাসীর প্রশ্ন
🔹 আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, তার স্বচ্ছ প্রমাণ প্রকাশ করা হোক।
🔹 সাংবাদিককে উপহাস ও অপমান করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
🔹 প্রশাসনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জুলুম করে টাকা আদায়ের ঘটনা বন্ধ করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.