
শ্রীপুর প্রতিনিধ:
গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশ কনস্টেবলের আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি, একাধিক গাড়ি,ওঢাল সম্পদ, বিভিন্ন মানুষকে নির্যাতন করে মামলার হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ ওই পুলিশ কনস্টেবলের নাম শরিফুল ইসলাম শরিফ। অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী নেতার সহোদর ভাই কাওরাইদ ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির শেখের দাপটে সাবেক "ডিবি" প্রধান হারুনের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে টাকা কামিয়ে নিজ গ্রামে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান করছেন বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। উপজেলার টেংরা মধ্যেপাড়া তার পিতা শাহজাহানের নামে কিনেছেন জমিসহ বাড়ি,রয়েছেন একাধিক প্রাইভেটকার গাড়ি,অবৈধ কালো টাকার পাহাড়। এত বিশাল বিত্ত -বৈভব ও অর্থ সম্পদের মালিক হলেও আলাদিনের চেরাগ পাওয়া এই পুলিশ কনস্টেবল শরীফ রয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টির আড়ালে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাগ নং-১৪০/১৪১ কাওরাইদ মৌজায় পুলিশ কনস্টেবলের দৃষ্টিনন্দন এ ডুপ্লেক্স বাড়িটি।প্রথমে পাশ্ববর্তী থানা পাগলা,ভালুকা,থাকলেও পরবর্তীতে নানা অনিয়মের অভিযোগে কক্সবাজার বদলি হয়েছেন এই পুলিশ কনস্টেবল।
স্থানীয়রা বলছেন সাধারণ পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি করে ঘুষ বানিজ্যে ছাড়া বাড়ি,গাড়ি,জমি এত কিছু করা সম্ভব নয়।এলাকাবাসীর একজন শামীম বলেন,আমাদের দুই একজন ভাই পুলিশের চাকরি করে তারাতো ঠিকমতো সংসার চালাতে হিমশিম খায়, সাধারণ একটি বাড়িই করতে পারেনা তাহলে শরীফ কিভাবে এত কিছু করল! বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করে বের করা উচিৎ।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন,বেশ কয়েকদিন আগে শরীফ ৩০/৩৫ লাখ টাকা মূল্যের দুইটি প্রাইভেটকার গাড়ি কিনেছেন গাড়িগুলো বাড়িতেই থাকতো বর্তমানে গাড়িগুলো অন্যকোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।
স্থানীয় ঝন্টু বলেন,এত অল্প সময়ে পুলিশ কনস্টেবলের বাড়ি, গাড়ি,টাকার মালিক কিভাবে হলেন,আমাদের বোধগম্য নয়! দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তের মাধ্যমে তার সকল সম্পত্তি ব্যাজেয়াপ্ত করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন মাস্টার বলেন,এই দুর্নীতিবাজ,ঘুষখোর পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই হুমকি -ধামকি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে দাপট দেখায়,তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ কিছু বলতে পারেনা,আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।
উল্লখা পুলিশ কনস্টেবল শরীফ ২০১৭ সালে চাকুরীতে যোগদান করে, বর্তমানে তার চাকুরির বয়স মাত্র ৭ বছর, এই সাত বছরে তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, বড় ভাই জাকির হোসেন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায়, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারত না।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শরিফুলের মোবাইল নাম্বারে কল করলে প্রথমে তিনি গাড়িতে আছেন বলে কল কেটে দেয়, পরবর্তীতে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.