
অথই নূরুল আমিন
আমরা বাঙালি জাতি, একাত্তরে আমাদের পূর্নাঙ্গ স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। কিন্তু এই স্বাধীনতা পাওয়ার আগে পাকিস্তানের প্রতি আমাদের কি কি অভিযোগ ছিল?
১. পূর্ব বাংলার নাগরিক হিসাবে কেউ উচ্চ পদে চাকরি পেতে অনেক কষ্ট পেতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ পদে চাকরি হতই না।
২. পূর্ব বাংলার জনগণের সাথে মেলিটারীরা খুব খারাপ আচরণ করত। বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করত।
৩. পূর্ব বাংলার মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবীরা তাদের মত প্রকাশে কঠিন থেকে কঠিন বাধা ছিল।
৪. তখনকার সময়ে পূর্ব বাংলার জনসাধারণের জন্য কৃষি কাজে পাকিস্তানি সরকারের কোনো সহযোগিতা ছিল না।
৫. পূর্ব বাংলার জনগণের শিক্ষা খাতে কোনো সরকারি বাজেট ছিল না। বাঙালি শিক্ষিত হোক ওটা তারা চাইত না।
৬. স্বাস্থ্য সেবার মান খুবই খারাপ ছিল। ইত্যাদি ইত্যাদি।
এককথায় পাকিস্তানি শাসক গুষ্ঠি চায়নি পূর্ব বাংলার কেউ শিক্ষিত হোক। কেউ ভালো থাকুক।এগুলো আসলে আমাদের শোনা কথা।
কিন্তু শেখ হাসিনা গত ষোল বছরে। যে ভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছে। পৃথিবীর সকল বড় বড় স্বৈরশাসকের চেয়েও অনেক বড় তার ইতিহাস হবে একদিন নারী স্বৈরশাসক হিসাবে।
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ব্যানারে ক্ষমতায় এসে, খুব ঠান্ডা মাথায় দেশের আশিভাগ জনগণকে যেমন করেছে শোষণ। তেমনি করেছে নির্যাতন, তেমনি সমগ্র জাতিকে মশকরা ও খামখেয়ালী করেছে ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর আগ পযর্ন্ত।
দেশের শতভাগ জনগণ থেকে বাছাই করে সমাজের খারাপ ধরনের লোকগুলোকে প্রথমে দলীয় পদ দেয়া হয়। তারপর তাদেরকে তার দলের লাঠিয়াল হিসাবে করা হয় দলীয় বাহিনী। আর সরকারের সকল কর্মচারিদের কে দিয়ে ঘুষ প্রথা চালু করেছে তাও শতভাগ। এদিকে তার দলের নেতাকর্মীরা সবাই চাঁদাবাজ। এমপি মন্ত্রীরা সবাই সরকারি প্রকল্পের কমিশনের ভাগীদার। অন্য দিকে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ছিল জাতি শোষণ সিন্ডিকেট। তার সবকিছুর ভাগ পেয়েছে শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা একটা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মাত্র ২০% মানুষ দিয়ে দেশের ৮০% জনগণকে যেমন করেছে শোষণ, তেমনি করেছে নির্যাতন, নিপীড়ন, তেমনি ভাবে দেশের শিক্ষা নষ্ট করেছে। স্বাস্থ্য সেবা নষ্ট করেছে। সামাজিক সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। এককথায় একটা জাতির সমস্ত মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে আপন চিত্তে। তার জন্য একমাত্র দায়ী শেখ হাসিনা।
বিশেষ করে বাঙালি জাতির যত গুলো সংস্কৃতি ছিল তাও নষ্ট করে দিয়েছে,শেখ হাসিনা। প্রকৃতপক্ষে শেখ মুজিবকে যারা মন প্রানে ভালোবাসত। তাদের কেও সে আঘাত করেছে চরমভাবে । অমূল্যায়ন করেছে। শোষিত নির্যাতিত দেশের ৮০% জনগণের কাছে শেখ হাসিনা এই নামটি যেন এক ঘৃণায় পরিণত হয়েছে। সারাদেশের ৮০% মানুষ তার এই নামটি ঘৃণা করে তার সাথে সাথে শেখ মুজিবকে আজকে আর কেউ সম্মান দিতে রাজী নয়, একান্তই তার দলের কিছু লোক ছাড়া।
আজকে দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে অনেক বড় কষ্ট। তারা অনেকেই শেখ হাসিনাকে শেখ মুজিবের কুলাঙ্গার কন্যা হিসাবে আখ্যায়িত করছে। ভবিষ্যতে তার দুর্নীতি যখন আরো প্রকাশ পাবে। জনগণ আরো ক্ষিপ্ত হবে দেশের জনগণ ।
এর প্রথম কারণ হলো। দেশের সাধারণ মানুষেরা কোনো কাজে কোনো ভাবেই শেখ হাসিনার কাছে কোনো রকম মর্যাদা পায়নি। শেখ হাসিনার কাজ কর্ম কথা বা ভাষণে তার সেই অসভ্যতা জনগণের মাঝে ফুটে উঠেছে শতভাগ।
আগামী হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ হাসিনা এই নামটি যেন একটি কলংকময় নাম ধরেই ইতিহাস লিখবে নবীনেরা । এই হবে তার আগামী ইতিহাস। শেখ হাসিনার মুখের ভাষা যতটুকু খারাপ তারচেয়েও বেশি খারাপ চরিত্র, যার ফলে সবার প্রিয় শেখ মুজিব নামটিকেও আজকে দেশে বিদেশে থাকা সকল বাঙালি ঘৃণা করছে চরমভাবে । যা কখনও হবার কথা ছিলো না।
কথা থাকে যে, কখনও যদি কারো প্রতি একবার ঘৃণা ভাব জন্ম হয়। তা আর সহজে দূর হয়না। তবে কিছু জনগণ তাকে নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে। যারা তাকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে পছন্দ করত। তাদের এই পছন্দ ও একদিন ভাটা পড়তে থাকবে। এভাবেই একদিন বিলিন হয়ে যাবে, দুষ্ট শেখ হাসিনার নাম। তবে কথা থাকে যে, দেশের জনগণের মন থেকে শেখ হাসিনাকে যেভাবে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। বতর্মান সরকার যদি শেখ হাসিনার চেয়েও দেশের পরিস্থিতি খারাপ করে ফেলে তারপরেও শেখ হাসিনাকে দরকার আছে, এমন কথাটি আর কেউ বলবে বলে আমার মনে হয়না। তার কারণ শেখ হাসিনা দেশের জনগণের চিত্তে অনেক বড় আঘাত করেছে।
16/8/2024
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.