
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এক কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এইচ এম আবু জাফর এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলন আজ (২০২৪ সালের ২১ জুলাই) সকাল ১১টায় শ্রীপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এইচ এম আবু জাফর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ১লা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া 'চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান'-এ ছাত্রদলের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদলের দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াই-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতিতেই এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, যার ফলস্বরূপ 'খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা' পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
আবু জাফর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব এককভাবে নিয়ে দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।" তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের আপামর জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম। তবে একক দল হিসেবে 'চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান'-এ ছাত্রদলের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। তাই, ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একটি 'গুপ্ত সংগঠন'-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সভাপতি নিজে আন্দোলনে অংশ না নিয়ে সবজি কেনায় ব্যস্ত ছিলেন, অথচ এখন তারা এককভাবে গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিতে চাইছে।
এইচ এম আবু জাফর গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদদের প্রতি সরকারের 'বিভক্তি ও বৈষম্যমূলক আচরণের' তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, "পাঠ্যপুস্তকে ওয়াসিম আকরামের নাম সংযুক্ত করা হয়নি শুধুমাত্র ছাত্রদলের কর্মী হওয়ার কারণে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।" তিনি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে সকল শহীদের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ইদানিং গুপ্ত সংগঠন সহ একটি গোষ্ঠী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়েছেন।
ছাত্রদল নেতা তারেক রহমানকে জড়িয়ে 'কুরুচিপূর্ণ স্লোগান' দেওয়ার জন্য 'গুপ্ত সংগঠন' সহ একটি গোষ্ঠীকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো তারেক রহমান কে নিয়ে এ ধরনের 'শিষ্টাচার বহির্ভূত স্লোগান' দিলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের রাজপথে প্রতিহত করবে।
"রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত লাগামহীন বক্তব্য বন্ধ করুন।" তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, বিএনপি নেতাদের নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য বন্ধ না করলে সারা বাংলাদেশের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে রাজপথে প্রতিহত করবে। এনসিপির নেতাদের প্রতি তার আহ্বান ছিল, "আপনারা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করুন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যথায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে রাজপথে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে বাধ্য হবে।"
এইচ এম আবু জাফর অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি সহ 'ধর্মভিত্তিক পীর ব্যবসায়ীরা' পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে 'ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন' করতে চায়। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, "অনেক পীর আছে যাদের মুরিদ আছে কিন্তু ভোটার নাই, তারাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওয়াসিম সাঈদ সহ ২০০০ ভাই 'ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের' জন্য জীবন দেননি।
এই ছাত্রনেতা ৩১ দফার ভিত্তিতে একটি 'সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ' বিনির্মাণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা, ত্যাগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়তা বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
শ্রীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক ইমরান মীরধার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজমুল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই স্মরণ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক এনাম। এছাড়া, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল জনি, সহ-সভাপতি খালেদ মাসুদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল করিম মোড়ল রিফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আলম সরকার, শ্রীপুর পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মামুন আকন, সদস্য সচিব আজিজুল হক রাজন, শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল সরকার এবং সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক যুবায়ের সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.