দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়নের গজপুড়ী ক্লিনিকপাড়া সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক টানা বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ মেহেদুল ইসলাম দুলাল। পরে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম শাকিলকে বিষয়টি জানানো হলে তাঁর প্রতিনিধি সুপারভাইজার অমৃত রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তবে পরিদর্শন শেষে তিনি সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য সরকারের নির্ধারিত বাজেট এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর রয়েছে। সেক্ষেত্রে জনগণের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা অনৈতিক ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার শামিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি রাস্তা ভেঙে গেলে তা মেরামতের দায়িত্ব সরকারের। যদি জনগণের টাকায় রাস্তা সংস্কার করতে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজন কী?
ইউপি সদস্য মোঃ মেহেদুল ইসলাম দুলাল জানান, সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দ্রুত বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। পরে একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ চাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তিনিও শুনেছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ নিরসনের পাশাপাশি অর্থ দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি সুপারভাইজার অমৃত রায় বলেন, আমি সড়ক ভাঙনের বিষয়টি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য হাজিরা বাবদ কিছু অর্থ চেয়েছিলাম। তবে আমি তাদের বলেছি, একদিন পর কাজটি করা হলে কোনো অর্থ লাগবে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, সড়ক মেরামতের জন্য কোনো ধরনের অর্থ দাবি করার সুযোগ নেই। প্রতিনিধিরা শুধু বিষয়টি পরিদর্শন করবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সড়ক মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, সড়ক ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে কিছু ছবি আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। কেউ যদি সড়ক মেরামতের নামে অর্থ দাবি করে থাকে, তাহলে তাকে ডেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.