গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরে ‘বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব’ নামক সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে পদ-পদবি কেনাবেচা ও সাংগঠনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে মেজবাহ উদ্দিন সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে শ্রীপুর উপজেলা কমিটির বৈধ সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে নতুন ‘পকেট কমিটি’ গঠনের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী মো. সোহাগ রানা অভিযোগ করে জানান, তিনি ২০২৫ সালের অনুমোদিত শ্রীপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। মেজবাহ উদ্দিন সরকার এবং কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ আহমেদ সরকারের যৌথ স্বাক্ষরিত সেই কমিটির তালিকাও তার কাছে রয়েছে।
সোহাগ রানা বলেন, “আমাকে কোনো প্রকার কারণ দর্শানো নোটিশ বা সাংগঠনিক নিয়ম না মেনেই বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি যাকে সভাপতি পদে প্রস্তাব করে নির্বাচিত করেছিলাম, সেই নাঈম হাসানের কুমন্ত্রণায় পড়ে মেজবাহ উদ্দিন সরকার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই কাজ করেছেন।” তিনি আরও জানান, পূর্বের কমিটির সদস্যদের অন্ধকারে রেখে নাঈম হাসানকে সাধারণ সম্পাদক এবং কমিটির বাইরের একজনকে সভাপতি করে নতুন একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবাদিকতার নামে এমন ‘ফাউল’ কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি মেজবাহ উদ্দিন সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বেসরকারি টেলিভিশন ইনডিপেনডেন্ট টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এ মেজবাহ উদ্দিন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকতার নজির না থাকলেও ‘বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব’ গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি পরিচয় দিয়ে তিনি জেলাজুড়ে পদ বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি নিজেকে ‘আনন্দ টিভির আজীবন সদস্য দাতা’ দাবি করলেও সাংবাদিক হিসেবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মস্থলের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মেজবাহ উদ্দিন সরকার টাকার বিনিময়ে কমিটি পরিবর্তনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ আছে সাংগঠনিক নিয়ম অমান্য করলে যে কাউকে বাদ দেওয়া ও কমিটি পরিবর্তন করার।” তবে একজন নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই কেন বাদ দেওয়া হলো—সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলছেন, ‘বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব’ এর মতো নাম ব্যবহার করে যারা পদ বাণিজ্য ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছে, তারা মূলত পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে। টাকা দিয়ে পদ প্রদান এবং নিজের ইচ্ছেমতো কমিটি ভাঙা-গড়ার এই সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.