শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি.
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর বোর্ডে জমা না দেয়ায় ৭৩ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। পাঁচটি স্কুলের ৭৩ জন পরীক্ষার্থী এ্যাপারেল ম্যাসুফেকচারিং বেসিক-২। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার কারিগরি বোর্ডের ভোকেশনাল শাখার পরীক্ষা শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় এ্যাপারেল ম্যাসুফেকচারিং বেসিক-২ বিষয়ে ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়।
এদের মধ্যে শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, জৈনাবাজার আদর্শ কারিগরি ১০জন,পেলাইদ আদর্শ বিদ্যালয়ের ২০ জন,তেলিহাটি উচ্চবিদ্যালয়ের ১২জন, শ্রীপুর কারিগরি স্কুলের ৭ জন। আজ স্কাল থেকে পরীক্ষার্থীরা শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে।
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা সকলে ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। গত দশ জুলাই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখি আমাদের সকল বিষয়ে ভালো রেজাল্ট হয়েছে।
এক মাত্র এ্যাপারেল ম্যাসুফেকচারিং বেসিক-২ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছি। এবিষয়ে লিখিত পরীক্ষা হয় ৬০ নম্বরের। ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর ৪০। আমরা সকলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছি। ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের জন্য আমরা অকৃতকার্য হয়েছি। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। আমরা টাকা না দেয়ায় ওই বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর বোর্ডে জমা দেননি।
পরীক্ষার্থী দের মধ্যে তানজিল,তামান্না,অনি ও সুমনা সহ পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, আমরা সঠিক ভাবে পরীক্ষা দিয়েছি। রেজাল্ট হবার পর দেখি আমরা ফেল।
পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবের দায়ীত্ব অবহেলার কারণে মাদের ফল বিপর্যয় হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
নাম প্রকাশ না করে এক পরীক্ষার্থী মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে ফেল করার কারণে ঘরে দরজাবন্ধ করে আত্ন হত্যার চেষ্টা করেছে। এখন মেয়েকে নিয়ে টেনশনে আছি। পরীক্ষার্থী ও অভিবাক গন বলেন, ফল ট্রকাশের পর থেকে আমরা কেন্দ্র সজিবের সজথে যোগাযোগ করে ও কোন প্রতিকার পাইনি।
পেলাইদ আদর্শ কারিগরি সুপারেন্টেনডেন্ট মো. কামরুল হাসান জানান, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রেজাল্ট দেখে হতবাক। আমার স্কুলের ২০ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পাই তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর জমা না দেয়ায় এমনটি ঘটেছে।
কেন্দ্র সচিব শাহানাজ পারভীন টাকা দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছে কোন টাকা চাওয়া হয়নি। ব্যবহারিক নম্বর পাঠানো হয়েছে। সার্ভার সমস্যার কারণে হয়তো নম্বর জমা হয়নি। আমরা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। বিষয়টি সমাধান হতে পাড়ে।
উপাজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর বোর্ডে লোক পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখছি দায়ীত্বে কোন অবহেলা আছে কিনা। যদি থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:এস এম রেদ্বোয়ান
Copyright © 2026 দৈনিক সময়বেলা. All rights reserved.